রাণী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজ এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

নারী শিক্ষার মশালবাহী রাণী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজ আজ নাটোর জেলার তথা চলনবিল বেষ্টিত উত্তর জনপদের গণমানুষের কাছে আলোর এক প্রশস্ত আঙ্গিনা। একাডেমিক কার্যক্রম, বোর্ড ও বিশবিদ্যালয়ের ফলাফলসহ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গণে কলেজটির পদচারণা সর্বমহলে প্রশংসিত। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে অণেষা ও অর্জনের সুনিবিড় অন্তরঙ্গ উচ্ছাস লক্ষ্য করা যায় এতদাঞ্চলের অভিভাবক মন্ডলীর হৃদয়ের গভীরে।
দ্বিধাহীন ভাবে বলা যায়, আজ থেকে প্রায় ৫ (পাঁচ) দশক পূর্বে ১৯৭৩ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে বিশিষ্ট নাট্যকার, গল্পকার, উপন্যাসিক ও শিক্ষাবিদ জনাব শফি উদ্দিন সরদার এর প্রচেষ্টায় এবং কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ জনাব ময়েজ উদ্দিন আহমেদ এর বলিষ্ঠ নের্তৃত্বে এবং নাটোরের তৎকালীন গভর্নর জনাব শংকর গোবিন্দ চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

কালের পরিক্রমায় এই কলেজটি কখনো নাটোর রেল স্টেশনের নিকট বাড়ি ভাড়া করে, কখনো বা শুকুল পট্টিতে শফি উদ্দিন সরদার স্যারের বাড়িতে আবার কখনো কানাইখালীর নারোদ নদের তীরে ঢীমে তালে চলতে থাকে।

পরবর্তী কালে নাটোরের তদানিন্তন এসডিও জনাব মোঃ আবু হাফিজ সাহেব এব উদ্যোগে ১৯৮১ বা ১৯৮২ সালের দিকে বর্তমান শুকুল পট্টির সিংহ তোরণ খচিত প্রবেশদ্বার বেষ্টিত জমিদার বাড়িতে স্থানান্তরিত হয় এবং অর্ধবঙ্গেশ্বরী খ্যাত রাণী ভবানীর নামে এই কলেজটি নামকরণ করা হয়।
১৯৭৩ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে শুধু উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে মানবিক ও বাণিজ্য বিষয়ে পাঠদান করা হতো। কিন্তু পরবর্তীকালে ১৯৮১ সালে অধ্যক্ষ জনাব মোঃ ইয়াছিন আলী মৃধা স্যারের সময় উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান ও স্নাতক(পাস) কোর্স চালু হয়। এরপর ১১/০৫/১৯৮৯ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে এর অগ্রযাত্রা প্রসারিত হতে থাকে।

২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুধু ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হলেও বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর নারগিস সুরাইয়া আখতার এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলা, সমাজকর্ম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও মার্কেটিংসহ মোট ৫ (পাঁচ) টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে মোট ৬ (ছয়) টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে।

১৯৮৯ সালে কলেজ জাতীয় করণের সময় কলেজে মোট ৩৩ টি পদ ছিল এবং শিক্ষার্থী ছিল ৩০০ এর কাছাকাছি। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কলেজ জাতীয় করণের ৩০ বছর পার হলেও এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪০০০ এ উন্নীত হলেও কর্তৃপক্ষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কলেজের পদসংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। যা সত্যিকার পাঠদান ও মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। যাই হোক নানামুখী প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও অর্ধবঙ্গেশ্বরী খ্যাত রাণী ভবানীর নামে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর নারগিস সুরাইয়া আখতারের কর্মতৎপরতায় এবং নাটোরের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী মহলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় যে বিদ্যাপীঠটি অঙ্কুরিত হয়েছিল তা এখন সরকারি অকৃপণ পৃষ্টপোষকতায় ফলবাহী মহীরূহে পরিণত হতে যাচ্ছে।

সংকলনে
মোঃ আমিনুর রহমান
চেয়ারম্যান
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
রাণী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজ, নাটোর